Kalyan Jewellers, Shabia-Mussaffah, Abu Dhabi

Shop No 1 & 2, Ground Floor
Abu Dhabi- 43680

971-25500733

Call Now

Opens at

<All Articles

এই কড়োয়া চৌথ –এ আপনার শপথ নতুন করে তুলুন কল্যাণ জুয়েলার্সের সংকল্প কলেকশনের সঙ্গে।

কড়োয়া চৌথ কে বলা যায় বছরের সব চেয়ে রোমান্টিক সময়! বই আর সিনেমায় সব চেয়ে বেশি উদযাপিত কড়োয়া চৌথ হল সেই জাদুকরী দিন, যে দিন বিবাহিত মহিলারা গোটা দিন উপবাস করেন স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনায়। বৈবাহিক সম্পর্কের মাধুর্যটা কল্পনার বাইরে আর অমপতির ক্ষেত্রে প্রতিটি দিনই হল অনন্য।
পরম্পরাগতভাবে নানা উত্‍সব আর প্রথা আছে আঞ্চলিকভাবে এই মিলন উদযাপনের জন্য। যাই হোক, কড়োয়া চৌথ হল সবচেয়ে বেশিহারে উদযাপিত সেই উৎসবগুলির অন্যতম, যেগুলো সম্প্রদায় নির্বিশেষে বহু বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে। ভালোবাসা ও চিরকাল একসাথে থাকার শপথের এই উৎসবে অ-বিবাহিত যুগলও উপবাস পালন করে থাকে তাদের প্রণয়ীদের জন্য ভালোবাসা উদযাপনে আর চিরদিন একসঙ্গে থাকার প্রার্থনায়।
কড়োয়া চৌথ-এর একটা বিশেষ দিক হল, অনেক স্বামীও ঐ দিন পত্নীর স্বাস্থ্যকর জীবনের কামনায় উপবাস করেন। এই উৎসব শ্বাশুড়ি ও বৌমার মধ্যে আর এক স্ত্রী ও মায়ের মধ্যে এক অসাধারণ বন্ধন গড়ে তোলার উৎসবরূপেএ পালিত হয় ।কড়োয়া চৌথের দিন সূর্যোদয়ের আগে শ্বাশুড়ি মা, তাঁর বৌমাকে সারগি খেতে দেন, যা হল, ফল, চাপাটি ও তরকারি সমন্বয়ে এক আহার। স্ত্রীর মা আবার উপহার পাঠান যেটা অলঙ্কার, জামা-কাপড় বা খাবার, যা খুশি হতে পারে। উপলক্ষটা হল ভালোবাসা আর ঊষ্ণতা আর এইটাই পরিবারগুলোকে বেঁধে রাখে।
কড়োয়া চৌথে মহিলারা, সুসজ্জিত হয়ে, হতে মেহেন্দি লাগানোর পাশাপাশি অসাধারণ অলঙ্কার পরেন চন্দ্রোদয়ের মুহুর্তের প্রতীক্ষায়। লোককথা কড়োয়া চৌথের সঙ্গে রানী বীরবতীর কাহিনীকে জড়িয়ে রেখেছে। ভালোবাসা আর চাওয়ার এই গাথা এই প্রথার রোমান্স আর মর্মস্পর্শীতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সাত ভাইয়ের একমাত্র বোন বীরবতীর প্রতি ভাইদের অকৃত্রিম স্নেহ ও ভালোবাসা বর্ষিত হত সব সময়েই। তার প্রথম কড়োয়া চৌথ সে উদযাপন করছিল বাপের বাড়িতে। ভাইয়েরা দেখলেন যে বোন অধীর আগ্রহে চল্দ্রোদয়ের অপেক্ষায়, কেননা, তখনই তিনি উপবাস ভঙ্গ করতে পারবেন। প্রিয় বোনকে ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর দেখে ভাইরা একটা মজার পরিকল্পনা করলেন। অশ্বথ গাছে তাঁরা একটা আয়না ঝুলিয়ে দিলেন যাতে, বোনের সেটা দেখে চাঁদ উঠেছে বলে মনে হয় আর তিনি উপবাস ভঙ্গ করেন।
কিন্তু যে মুহুর্তে বোনটি উপবাস ভহ্গ করলেন, ঠিক সেই মুহুর্তেই খবর এল যে, তাঁর স্বামী, তিনিও ছিলেন রাজা, পরলোকগমন করেছেন। শোকে, দুঃখে, বীরবতী সারা রাত কাঁদলেন। তাঁর এই শোক ও মর্মবেদনা এক দেবীকে টেনে নিয়ে এল তাঁর কাছে আর সেই দেবী তাঁকে পরদিন সম্পূর্ণ একনিষ্ঠ চিত্তে উপবাস করতে বললেন। মৃত্যুর দেবতা, যম, তাঁর সেই নিষ্ঠা ও ভক্তিতে টলে গেলেন, এবং তাঁর স্বামীকে বাঁচিয়ে দিলেন। বীরবতী স্বামীকে ফিরে পেলেন।
এই মনোমুগ্ধকর কাহিনীর নানা রূপ প্রচলিত আছে।, যেগুলো প্রেম ও স্বর্গীয় আবির্ভাবের জয় ঘোষণা করে আর শেষটা সব ক্ষেত্রেই মিলনাত্মক ও মৃত্যুঞ্জয়ী।
এই দিনের তিনটি সাজ এখানে তুলে ধরা হয়েছে প্রতিটি উপলক্ষকে সবিশেষ করে তুলতে। সকালের সারগি থেকে শুরু করে জল রাখা আর শেষে চন্দ্রোদয়ের প্রতীক্ষা, যখন চাঁদ আপনার দিকে চেয়ে হেসে ওঠে, এই তিনটি ক্ষণেই আপনাকে আলাদা আলাদা সাজে প্রেক্ষনীয়া ও আকর্ষণীয়া হয়ে উঠতে হবে যে।
সকালের সাজ
কড়োয়া চৌথ-এর যে কোনো সাজ-এর প্রধান আকর্ষণ হল অলঙ্কার। এই দিনটা কখনোই কোনো কিছু কম করায় বিশ্বাসী নয়। সকালের সাজের আসল লক্ষ্যটা না হয় হলই বা পাঁয়জোড় বা অ্যাঙ্কলেট, একটা রোমান্টিক আর দুষ্টুমি-ভরা গয়না যা আপনার গোড়ালি জড়িয়ে থাকে। পাঁয়জোর রুনু-ঝুনু ঝংকার আপনার দিকে সকলের নজর টানে আর সকলেই বলে আপনাকে কি সুন্দর-ই না দেখাচ্ছে।পাথর-বসানো কংবা কুন্দনের কাজ করা সোনার পাঁয়জোড় পরুন। সঙ্গে থাকুক পেনড্যান্ট দেওয়া সোনার হার আর মুক্তো ও নীলকান্তমণির দুল, যার ঝলক আপনার সূর্যস্পর্শী গাত্রবর্ণে স্তুতির লহর তোলে।
এই সমন্বয় সত্যিই দুর্দান্ত। সাধারণত সালওয়ার সুট বা চাপা রঙের লেহেঙ্গাই এই সময়ে সবচেয়ে ভালো মানায়। সুন্দরভাবে বানানো ও ফিট করা নীল, ইয়েলো বা পিংক সালওয়ার সুট আর সেইসঙ্গে বান বা টপ নট হেয়ার স্টাইলে আপনাকে দেখাবে অনাড়ম্বর অথচ গর্জাস! পরিশেষ, সাজ সম্পূর্ণ করতে আরামদায়ক কোনো ফ্যাশন ফুটঅয়্যার বেছে নিন।
এই সাজের সঙ্গে আপনি রঙিন, সাধারণত লাল-সাদা, চুড়াও পরতে পারেন, যাতে আপনার মণিবন্ধটি নববধূর ঝলকে ঝকমকিয়ে ওঠে। তা না হলে আপনি যদি এমন সাজ চান, যা একালের হলেও ধ্রুপদী, তবে পরুন হীরক –খচিত বালা, আর, ডায়মন্ড ঝুমকা, সঙ্গে হালকা মেক-আপ আর সাজ হয়ে উঠুক পূর্বজ।
সন্ধ্যার সাজ
এটাই হল সেই সময়, যখন আপনি চাইবেন সেরা সাজে সেজে উঠতে –আপনার বিয়ের সাজ। মীনাকারি বা হাতে গড়া সনাতনী অলঙ্কারের কথা, যেগুলো আপনি সবসময়েই চাইতেন। একটা মুক্তো আর চুনি দেওয়া হাঁসুলি হার পরুন আর সঙ্গে ড্যাংলার। জমকালো একটা লেহেঙ্গা বা শাড়ি পরুন নতুন বৌদের মত লাল আর সোনালী রঙে মেলানো ও সেই সঙ্গে জাডাউ বা শ্যাম্পেন স্টোন হারের সেট, যেটা সাজের মাত্রায় সাযুজ্য আনবে আর এনে দেবে চোখ ধাঁধানো ফিনিশ।
যদি আপনি ভাবেন যে বাড়ির ছাদে থেকে আত্মীয়-বন্ধুদের সঙ্গে কড়োয়া চৌথ উদযাপন করবেন, তাহলে আমাদের পরামর্শ, আপনি টোপ নট করে চুল বাধুন। শ্লীভলেস বা স্ট্রাপ দেওয়া চোলির সঙ্গে জারদোজি কাজের শাড়ী বা ঘাগরা পরুন। ঝোলানো ডায়মণ্ড এয়াররিং, স্লিক একটা হার, ছ থেকে আটগাছা চুড়ি আর চুলে কিছু ফুল, এতেই আপনার সাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।
কড়োয়া চৌথ শীতের আগমনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আসে আর আপনাকে ভারী গয়না পরাটা এড়িয়ে গেলে চলবে না। তবে, আপনি যদি কোনও একটির ওপর নজর টানতে চান, তাহলে কল্যাণ জুয়েলার্স-এর সংকল্প কালেকশন থেকে মাঙ্গ টিক্কা দেখে নিন। প্রতিটা পিসই একটা না একটা গল্প বলে। সূক্ষ ডিটেলিঙ্গ, অসামান্য ডিজাইন, আর রত্নগুলোর নির্বাচন এটা পরার পর আপনাকে সেই সুন্দরী রানীর চেয়ে কিছুমাত্র কম ভালো দেখায় না, যিনি 365 দিন ধরে রোজ একটা করে ছুচ করোরা থেকে বের করে স্বামীকে বাচিয়েছিলেন আর সেই থেকেই এই সুন্দর পরম্পরা শুরু করেছিলেন যা কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।
শিকাপুরী নথ-এ লগ্নি করুন, এ এক বিরাট নথ আর সংগের চেনে একটা ছোট্ট পেনড্যাণ্ট লাগানো। শিকাপুরী নথ খুব ডেলিকেট হয়েও ঐশর্যময়ী আর এটা অন্য যেকোনো অলঙ্কারকে ম্লান করে দেবে। লওঙ্গ অবশ্য ছোট স্টাডের বা একটা নাকবেধানো ধরনের আর ঠিক সেটাই যেটা আপনার পছন্দ হতে পারে যদি আপনি একটু কম প্রকাশ ভালবাসেন।
এই সাজের সঙ্গে সবচেয়ে ভাল যায় বা সত্যি বলতে যে কোনও সাজের সঙ্গেই, এই কথা ভাবলে যে কী অসাধারণ অলংকার এটি, তা হল চোকার। যেমন, একটা রানীহার সেট সহ একটি চোকারের কথা ভাবুন যা আপনার সুস্পষ্ট কলার বোনের ওপরে দারুন মানাবে।আর আপনি যদি একটু বাড়াবাড়ি করা নিয়ে তেমন চিন্তিত না হন, তাহলে বরং একটা ইউ-আকৃতির সাতলরা নেকলেস যোগ করার চেষ্টা করুন । এই গয়নার সমন্বয় আপনাকে রাণীর মতই সুন্দরী করে তুলবে।
আপনি যখন চাঁদ দেখতে ব্যস্ত থাকবেন তখনকার সাজ
ব্লিঙ পড়ুন। এই সাজের সঙ্গে সবচেয়ে ভাল যায় লেহেঙ্গা। আমাদের পরামর্শ হল আপনার প্রিয় রঙের উজ্জ্বল শেড-এর লেহেঙ্গা পরুন। মেক আপের কথা উঠলে বলি যখন আপনি সবচেয়ে বেশি করে চোখের মেক আপের দিকে নজর দিতে চাইবেন, হয়ত, একটি সাহসী ক্যাট-বিংড আইলাইনার বা এক মায়াময় ধূমাভ চোখের সাজ বা এমনকি কাটা ক্রিজ। এর সঙ্গে থাকুক রেড বা কোরাল লিপস্টিক প্রচুর গ্লস সমেত।
জুয়েলারীর ক্ষেত্রে আমরা বলব কল্যাণ জুয়েলার্স-এর সংকল্প কলেকশন থেকে বালিজ বেছে নিতে। এগুলো দারুন সুন্দর এয়ারিংস, সাধারণত গোল বা অর্ধচন্দ্রাকৃতি, পাথর –খচিত। আপনি এটা আংটি-র সঙ্গে মিলিয়েও পরতে পারেন, মানে যেটা এঙ্গেজমেণ্ট রিং আর কী। এরসঙ্গে যোগ করা যায় উঝুরি মুদ্রা সোনার নেকলেস যা আপনার পুরো সাজটাকে আরো সৌন্দর্যপূর্ণ করে তুলবে। বিবাহিত মহিলাদের উত্‍সবের সাজ সম্পূর্ণ হয় না চুড়ি, মঙ্গলসূত্র, টিপ, বিয়ের আংটি আর সলিটেয়ার স্টাডস ছাড়া।
সংকল্প কলেকশনের পিসগুলো আধুনিক নারীর ভাবভঙ্গির সঙ্গে মানানসই, সেই সব নারী যারা জীবন সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসার প্রতীক স্বরূপ কড়োয়া চৌথ উদযাপন করেন। এই অলংকার সম্ভারটি ঐতিহ্য দ্বারা অনুপ্রাণিত, পছন্দের স্বাধীনতায় সমাদৃত, এবং ভারতীয় মূল্যবোধের প্রতি অন্তস্থ সম্মানের জন্য স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত। এবার, উদযাপন করুন সেই মহিলার জন্য যিনি আপনার জন্য উপবাস করেন বা আপনার পাশে থেকে উপবাস করেন, তাকে একটি হাতে কারুকাজ করা অলংকার বা একটি সলিটেয়ার আংটি দিয়ে যাতে তিনি সবসময়ে এই বিশেষ রাতটা মনে রাখেন। তিনি যখন চাঁদ দেখা সেরে ফেলেছেন আর আপনার-ই দিকে তাকিয়ে রয়েছেন, ঠিক সেই সময়ে তাকে উপহারটি দিন। আত্মীয়-বন্ধুদের মধ্যে, মিউজিক আর খাবার-দাবারের মধ্যেও কয়েকটা না-বলা-কথা সহ এই মুহূর্তটি জীবন্ত হয়ে থাকবে চিরদিন।

Can we help you?