Kalyan Jewellers, Hamdan Street, Abu Dhabi

Shop No-1 & 2, Omeir Bin Yousuf Mosque - Zone 1E3-01
Abu Dhabi- 43680

(971)800-0320969

Call Now

Opens at

<All Articles

ভাই ফোটা – আপনার সহোদরের জন্য চিরকালীন ভালোবাসা স্বীকারের দিন

উত্‍সবের মরশুমে মাধুর্যের ছোয়া মেলে ভাই ফোটার মত উত্‍সবের পরম্পরায়। এই উপলক্ষের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা যেন সীমাহীন। ভাই-বোনের অতীতের স্মৃতিগুলির শরিক ছেলেবেলার লড়াই, নালিশ, বড়দের মধ্যস্থতা, গোপন কথা কানাকানি, আর দুই ভাই-বোনের মধ্যে পুরো বোঝাবুঝি। ভাই-বোনের মধ্যে সম্পর্কের মত বেশ কিছু সম্পর্কই অনেকগুলো পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যায়, কিন্তু বন্ধনটা সব সময়েই থাকে দৃঢ়, চিরকাল। ভারতীয় ঐতিহ্য এই বন্ধনকে উদযাপন করে ভাই ফোটা ও রাখী বন্ধনের মত দুটি বিশেষ দিনের মাধ্যমে। এই দিনে চারপাশের সব কিছুতেই লাগে সৌন্দর্যের স্পর্শ। মালিকাসজ্জিত দুয়ারপথ, পুজোর থালি সহ তিলক বা ঐতিহ্যমণ্ডিত মিষ্টান্ন এবং ঘর-ভরা সৌরভ, ও ধ্রুপদী বেশ-ভূষায় সজ্জিত সুন্দর অলঙ্কারে শোভিত ভারতীয় পুরুষ ও মহিলা।
ভাই ফোটার পবিত্র উপলক্ষ দু দিনের দিওয়ালি উত্‍সবের পরেই আসে। ভাই দূজ ও ভাই ফোটা হল বোনদের কাছে সেই কেন্দ্রীয় উপলক্ষ যখন ভাইয়ের দীর্ঘায়ু, ভাল থাকা আর সম্পদ কামনা করে তারা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন। বোনের ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেন, তার আগে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন, আর নানা সুখাদ্য ভরা থালা নিয়ে ভাইয়ের সামনে রাখেন। ওই থালায় ধান, দুর্বা, এবং অঞ্চল ভেদে নানা সামগ্রী থাকে। ফোঁটা দিয়ে বোন ভাইয়ের ওপর ঘটতে পারে এমন ঋণাত্মক প্রভাবও দূরে সরায়। ভালোবাসা আর যত্নর প্রতিদাংস্বরূপ ভাইয়েরাও বোনদের উপহারে ভরিয়ে তোলে। অন্যদিকে ভালোবাসা আর কল্যাণ কামনায় বোন –ও ভাইকে বিপুল আহার ও উপহার পরিবেশন করে।
এই উপলক্ষে সহোদরকে উপহার দেওয়ার সবচেয়ে ভাল জিনিস হল জুয়েলারি কেননা এর ঔজ্বল্য আর মূল্য কখনো কমে না। উপহারটি এখানে ভালোবাসা আর বন্ধনের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। ভাই-বোনের যেমন বয়স বাড়ে, উপহারটিও তেমন পরিণত হয়ে ওঠে সুন্দরভাবে। সোনার থেকে হীরের আংটি, হাতে কারুকাজ করা ঐতিহ্যময় হার থেকে একালের গহনা। অলংকার হল সহোদরকে দেওয়ার মত চমত্‍কার এক উপহার।
ভারতেত সব উত্‍সবের মতই ভাই ফোঁটার উত্‍সবও অঞ্চলভেদে পৃথক রূপ নেয়। তবে মূল বিষয় আর প্রথা কিন্তু একই বিশ্বাস আর পরম্পরার ভিন্ন ভিন্ন রূপ। ভাই দুজ যেমন পশ্চিম বাংলায় ভাই ফোঁটা, মহারাষ্ট্রে ভাউ বীজ, নেপালে ভাই টিকা, আর ভারতের কোনও কোনও অংশে যমদ্বিতীয়া।
এই পবিত্র উত্সবের পৌরাণিক অনুষঙ্গ আছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নরকাসুরকে পরাজিত করেছিলেন। দীর্ঘ যুদ্ধ শেষে শ্রীকৃষ্ণ বোন সুভদ্রার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সুভদ্রা আনন্দে আত্মহারা। তিনি ভাইয়ের কপালে আনুষ্ঠানিক “তিলক” দিয়ে তাঁকে বরণ করেছিলেন উষ্ণ আন্তরিকতায়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কে সুভদ্রা সেদিন স্বাগত জানিয়ে ছিলেন ফুল- মিষ্টি দিয়ে আর সেই থেকেই ভাই ফোঁটার/ দূজের শুভ সূচনা।
অপর এক কিম্বদন্তী আছে মৃত্যুর দেবতা যম ও তাঁর বোন যমুনাকে নিয়ে। কিম্বদন্তী অনুসারে যম তাঁর প্রিয় বোন যমুনাকে দেখেন পূর্ণিমার দুই দিন পর দ্বিতীয়ায়। তিনি যমকে বরণ করেন আরতি, তিলক আর মিষ্টান্ন দিয়ে।সন্তুষ্ট চিত্তে যম যমুনাকে এই আশীর্বাদ করেন যে, এই দিনে, ভাই ও বোন যদি যমুনায় স্নান করে, তবে তারা মোক্ষ লাভ করবে।
বাংলায় ভাই ফোঁটা নামে পরিচিত এই উত্‍সবে বোন ভাইয়ের কল্যাণ কামনায় উপবাস করে থাকে সারা দিন ভাইয়ের আগমনের প্রতীক্ষায়। ভাইয়ের কপালে বোন তিনবার ফোঁটা দেয়, ঘি, কাজল আর চন্দন দিয়ে, আর তারপর আরতি করে। এর পর বোন ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করে আর তারপর উপহার বিনিময় হয়। উত্‍সব সমাপ্ত হয় বিপুল আহার ও মিষ্টান্ন পরিবেশনের মধ্য দিয়ে।
ভাই দুজ উত্‍সব মহারাষ্ট্রে “ভাউ বীজ” নামে উদযাপিত হয়। প্রথা অনুযায়ী ভাই সেখানে বোনের এঁকে দেওয়া বর্গাকার ক্ষেত্রে বসে।
এই উৎসব দেশের কোনো কোনো অংশে যম দ্বিতীয়া নামেও পরিচিত। কিম্বদন্তি অনুসারে যম দ্বিতীয়ার দিনে যাঁরা তাঁদের বোনেদের তৈরি খাবার খাবেন, যমদেব তাঁদের কোনো ক্ষতি করবেন না। আবার বিহারে ভাই দুজ উৎসবকে গোধন পূজা বলা হয়।
স্নেহ-ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হজদপো হল বিশেষ আবশ্যক এক জিনিস। প্রতিটি বন্ধনই নিজ নিজ দিক থেকে অনন্য হলেও, উপহার যে সম্পর্কটা সুদৃঢ় করেছে সেবিষয়েও কেউ কোন তর্ক তোলেন না।
কল্যাণ জুয়েলার্সের সেইসব অলঙ্কার যেগুলো আপনার বোন অবশ্যই সম্পদ বলে মানবেন –
ডায়মন্ড সলিটেয়ার আংটিগুলো ছিমছাম, ঐশ্বর্যময় আর ওরা কখনো আউট অফ স্টাইল হয় না। ডায়মন্ড ঝুমকাগুলোও, সত্যি বলতে কি, মহান সৌন্দর্যের বস্তুগত রূপ। যদি তিনি চান যে তাঁর গহনা হোক সহজ-সরল অথচ সুরুচিপূর্ণ, আপনি তাহলে ওঁকে দিতে পারেন প্লাটিনাম চেন, সঙ্গে সূক্ষ্ম ডিজাইনের পেনড্যান্ট, কিংবা, হোয়াইট গোল্ডে ডায়মন্ড বসানো কানের দুল। এই সব অলঙ্কার যে কোনো উপলক্ষের সঙ্গেই যায় খুব সুন্দর, আর এই উৎসবের জন্য আদর্শ উপহারও বটে। নিত্যদিনের ডায়মন্ড বিভাগ বা অফিস কালেকশন বিভাগ থেকে একটি কোমল অথচ বলার মত ডায়মন্ড নেকলস শুধু যে ওর কলার বোনকেই সুচারুভাবে পরিস্ফুট করবে তাই নয়, ব্যক্তিত্বকেও বিকশিত করবে। ওকে প্রতি দিন আরো উজ্জ্বল হতে সাহায্য করুন, কাজের সময়ে তো বটেই, এমনকি বন্ধুদের সঙ্গে ব্রাঞ্চ করার সময়েও।
যদি আপনার বোন চুড়ি ভালোবাসেন, তাহলে আপনি একেবারে আধুনিক থেকে শুরু করে সূক্ষ্ম হাতের কাজের সুচারু সনাতনী চুড়ির সম্ভার থেকে বেছে নিতে পারবেন। নীল রত্নখচিত বা চুনিশোভিত ছিমছাম ডায়মন্ড ব্রেসলেট অথবা পাতলা পাতলা সোনার ব্রেসলেটের একটি গুচ্ছ ফ্যাশনের উচ্চকোটির পরিচায়ক। ভারী ভারী সোনার গহনা নিয়মের বাইরে বলে মনে হতে পারে। আধুনিক নারীর জন্য সাহসী ও পরীক্ষামূলক নক্সার অলঙ্কার খুঁজুন। তিনি তো পক্ষপাতশূন্য, নির্ঙয়া আর, অজানাকে আবিষ্কার করতে ভালোবাসেন। চিত্রিত মোটিফ, রুপোর বেস, রোজ গোল্ড প্রভৃতি তাঁর সংগ্রহকে আরো চমৎকারভাবে ভরিয়ে তুলবে।
আর তিনি যদি ধ্রুপদী অলঙ্কার পছন্দ করেন, তাহলে, কল্যাণ জুয়েলার্সের হাতের কাজের সুচারু সম্ভার থেকে একটি অতুলনীয় নিদর্শন তুলে নিন। দুর্দান্ত সুন্দরভাবে তৈরি দুল, আংটি বা হার তাঁকে নিঃসন্দেহে আনন্দে পরিপূর্ণ করে তুলবে।
যেসব অলঙ্কার আপনার ভাই পছন্দ করবেন –
কল্যাণ জুয়েলার্সের মেনস কলেকশন-এর বিভিন্ন ধরনের অতুলনীয় ও চিন্তাশীলভাবে উপহারের জন্য তৈরি অলঙ্কারের মধ্যে বিলাসবহুল অনুষঙ্গ ও সুদক্ষ ভাবে তৈরি নিদর্শন রয়েছে। অলঙ্কার পরাটা এখন প্রচলিত। একালের পুরুষের পছন্দ ছিমছাম,বাহুল্যবর্জিত ঐশ্বর্যময়তা। এই সংগ্রহে রয়েছে সূক্ষ্ম ডায়মন্ড জুয়েলের ব্যাপক সম্ভার যে কোনো শৈল্পিক চেতনার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মত। পুরুষদের উপহার দেওয়ার জন্য ডায়মন্ড জুয়েলারির ক্ষেত্রে ছিমছাম ডিজাইনের হীরে বসানো সোনার আংটি সবচেয়ে উপযুক্ত।
ক্লাসিক সোনার চেন হল চিরতরুণ আর যে কোনো উপলক্ষে মানানসই। আইকনিক বিনুনি-পাকানো ডাবল –টোনড ব্রেসলেট বলিষ্ঠ স্টেটমেন্ট দেওয়ার উপযোগী আর চোখ টানে। আলঙ্কারিক মোটিফ সহ ব্ল্যাক ওনিক্স আংটি হল সোনা আর ব্ল্যাক ওনিক্স-এর সমন্বয়। ক্লাসিক ডিজাইনের একটা আকর্ষণীয় আর অনন্য বস্তু, যেটি যে কোনো সানুষের ক্লোজেটে রাখার মতোই। 24K সোনার কয়েন ভাইয়ের জন্য সবচেয়ে বিশুদ্ধ সোনা, যে ভাইয়ের সেরাটা খুঁজে নেওয়ার নজর আছে। আভিজাত্যপূর্ণ মেনসওয়্যারের অঙ্গ হল কুর্তার বোতাম। সোনার ওপর হীরে বসিয়ে তৈরি এই বোতামের সাহায্যে তিনি .তাঁর কুর্তার সাীজটি নিখুঁত করে বিলাসব্যসনের সূক্ষ্ম প্রকাশ ঘটাতে পারবেন। বা হয়তো এই কাফলিংকগুলো তাঁর ধ্রুপদী স্যুট বা টাক্সেডোর সেরা উচ্চারণ হয়ে দাঁড়াবে।
ভাই বদুজের এই উৎসব সারা দেশেই উদ্বাহু হয়ে বিপুল আনন্দে উদযাপিত হয়ে থাকে। অবশ্য নাম আর প্রথা অঞ্চল ভেদে পার্থক্য গড়ে দেয়, কিন্তু এই উৎসবের মূল সুরটি, যা ভাই ও বোনের চিরন্তন বন্ধনের তাৎপর্যবাহী, সুস্বাদু মিষ্টান্ন ও চোখধাঁধানো উপহারের আতিশয্য কে সঙ্গী করে, তা সর্বজনীন হয়ে থাকে।
প্রাপ্তির দিকে থাকাটা সবসময়েই চমৎকার হলেও, দেওয়ার ক্ষেত্রেও একটা স্ব-কৃতজ্ঞতার বোধ কাজ করে। এই আবেগটাকে পরিমাপ করা যায় না। প্রাপকের আনন্দটা উপহারের মোড়ক খোলার সময়ের স্বল্পতায় সীমিত হলেও, দাতার আনন্দ সেখানে সীমাহীন, এক তুঙ্গস্পর্শী আবেগ, য়া শ্বাশ্বত। উপহার দেওয়া প্রশংসা আর ঊষ্ণতার পরিচায়ক, আপনার অনূভূতির যোগ্য বাহক।
ভাই –বোনের সম্পর্কটা এর অদ্ভুত সংযোগ, একেো অপরকে সহায় যোগানো থেকে সবকিছু ভাগ করে নেওয়া, এমনকি অপরাধ-ও! তাই সহোদরের জন্য উপহারটাও ঐ বন্ধনের মতোই স্বর্গীয় হওয়া উচিত।

Can we help you?